বিদেশি বিনিয়োগে ধীর গতি, ‘আশিক ম্যাজিক’ এখনো প্রতিফলিত হয়নি
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিনিয়োগ আকর্ষণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। আত্মবিশ্বাসী এই প্রশাসক দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে আয়োজনে মনোযোগী হন একের পর এক।
বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন, স্টারলিংক ও নাসার সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতার উদ্যোগ, এবং এক ছাতার নিচে বিনিয়োগ-প্রচারণা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের পরিকল্পনা তাকে জনমনে ‘আশিক ম্যাজিক’-এর প্রতিভূ করে তোলে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার উপস্থাপনা প্রশংসিতও হয়েছে ব্যাপকভাবে।
বাস্তবতায় ফাঁকা খাতা
তবে দায়িত্ব নেওয়ার সাত মাস পেরিয়ে এলেও প্রকৃত বিনিয়োগ পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। বিডার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ সময় নিবন্ধিত বিনিয়োগ প্রস্তাবের পরিমাণ আশানুরূপ নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যালান্স অব পেমেন্টস (বিওপি) অনুসারে, ২০২৩–২৪ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) ছিল ৮৬ কোটি ১০ লাখ ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ১১৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার—মানে প্রবাহ কমেছে প্রায় ২৬ শতাংশ।
অন্যদিকে, মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির পরিসংখ্যানে একই সময়ে ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে ১৫২ কোটি ডলারের মতো, যেখানে আগের বছর ছিল ২১৩ কোটি ডলার—২৮.৬৮ শতাংশ কমে গেছে। এই সূচকগুলো ভবিষ্যৎ বিনিয়োগে সম্ভাব্য দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।
হিটম্যাপ ও কৌশলগত প্রচারণা
গত বছরের ১৮ নভেম্বর বিডা ‘এফডিআই হিটম্যাপ’ তৈরির ঘোষণা দেয়—যার উদ্দেশ্য ছিল সম্ভাবনাময় দেশগুলো চিহ্নিত করে তাদের লক্ষ্য করে বিনিয়োগ প্রচারণা চালানো। এই কৌশলকে আশিক চৌধুরী “তথ্যভিত্তিক ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ প্রচেষ্টার রূপরেখা” বলে উল্লেখ করেন।
কিন্তু সেই পরিকল্পনার বাস্তব অগ্রগতি কিংবা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের দৃশ্যমান পরিবর্তন এখনো প্রকাশ পায়নি।
বিদেশিরা ‘রাজনৈতিক সরকারের’ অপেক্ষায়
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও নির্ভর করে।
একজন শীর্ষস্থানীয় বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীর প্রশ্নের জবাবে এক বিদেশি রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা এখনো রাজনৈতিক সরকারের অপেক্ষায় রয়েছি। সেই নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।”
অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জও কম নয়
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদহার ১৫ শতাংশের ওপরে, যা বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয়ের উচ্চ হার, পরিবহন খরচ, এবং স্থায়ী আমলাতান্ত্রিক জটিলতা।
দেশি বিনিয়োগকারীরাই যখন বিনিয়োগে আগ্রহী নন, তখন বিদেশিদের জন্য এই পরিবেশ মোটেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে না।
সামনের পথ
বিনিয়োগ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া—এমন বাস্তবতা মেনেই অনেকেই বলছেন, আশিক চৌধুরীর কার্যক্রম সময়সাপেক্ষ। তবে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি ফল না পেলে এই কার্যক্রমগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।
‘আশিক ম্যাজিক’ বাস্তবে রূপ নিতে হলে শুধু উদ্যোগ নয়, প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতি, অর্থনৈতিক পরিবেশের উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ।
সম্পাদনা: আমাদের সমাজ ডেস্ক
প্রকাশকাল: মে ১৩, ২০২৫
শহীদ সোহরাওয়ার্দী এভিনিউ, ব্লক কে, বারিধারা কূটনৈতিক অঞ্চল, ঢাকা-1212
সম্পাদক
তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু
নির্বাহী সম্পাদক
মতিউর রহমান
প্রকাশক
আমাদের সমাজ মিডিয়া লিমিটেড
আমাদের সমাজ মিডিয়া লিঃ এর একটি প্রতিষ্ঠান।
নিউজ
ফোনঃ +1 916-934-7384
Email: amadersomajonline@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +1 916-934-7384
Email: amadersomajonline@gmail.com
©২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |amadersomaj.com